9 minute read

পর্ব ৮: ইসলাম ও মুসলিমরা — কোন দলের নীতি কীভাবে স্পর্শ করে

সিরিজ: সুইডিশ রাজনীতি

কোন দল ঠিক কী প্রস্তাব করছে, তারা নিজেরা সেটার কী যুক্তি দেয়, এবং বাস্তবে তার প্রভাব কী


প্রথমে: সুইডেনে মুসলিম কারা, কতজন

সুইডেন সরকারিভাবে কারও ধর্ম নথিভুক্ত করে না — শেষ ধর্মভিত্তিক আদমশুমারি হয়েছিল ১৯৩০ সালে। তাই সব সংখ্যাই আনুমানিক, এবং কোন সংজ্ঞা ব্যবহার হচ্ছে তার ওপর নির্ভরশীল:

মাপকাঠি আনুমানিক সংখ্যা
“মুসলিম পটভূমি” থেকে আসা মানুষ ৫-১০% (৫ লাখ - ১০ লাখ)
মসজিদভিত্তিক সংগঠনের সদস্য/নিয়মিত উপস্থিত প্রায় ২,০০,০০০-২,২৫,০০০
জরিপে নিজেকে “ধর্মপ্রাণ মুসলিম” বলে পরিচয় দেন অনেক কম

এই পার্থক্যটা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিতর্কে প্রায়ই “১০ লাখ মুসলিম” বলা হয় — কিন্তু সেই সংখ্যাটি ধরে সাংস্কৃতিক পটভূমি, বিশ্বাস নয়। মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া বহু সুইডিশ সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ।

এবং গোষ্ঠীটি একরকম নয়: বসনিয়া, তুরস্ক, ইরাক, ইরান, সোমালিয়া, সিরিয়া, আফগানিস্তান, লেবানন, কসোভো, বাংলাদেশ — সুন্নি, শিয়া, আহমদিয়া, সুফি, এবং অসংখ্য অ-ধার্মিক। রাজনৈতিক মতও এক নয়। এটা মনে রাখা জরুরি, কারণ অনেক রাজনৈতিক আলোচনাই ধরে নেয় “মুসলিমরা” একটি একক ব্লক — যা তারা নয়।


কোন কোন নীতি আসলে আপনাকে স্পর্শ করে

আবেগের বদলে কংক্রিট জিনিস দেখা যাক। এই সাতটি ক্ষেত্রেই আসল প্রশ্ন:

১. পোশাক — হিজাব, নিকাব, বোরকা

এটি ২০২৬ নির্বাচনের সবচেয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলা প্রস্তাব।

Sverigedemokraterna জুন ২০২৬-এ ঘোষণা করেছে যে তারা হিজাবসহ সব ধরনের মাথা ঢাকা পোশাক জনসমক্ষে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে চায়। দলের মুখপাত্র সারা গিলে বলেছেন, তাঁদের বিশ্লেষণে এই পোশাকগুলো নারীর অধীনতা ও নিয়ন্ত্রণের প্রতীক, এবং সম্মানরক্ষার নামে নিপীড়ন মোকাবিলা করতে হলে এগুলো দূর করতে হবে। দলটি বলেছে, নির্বাচনে জিতলে প্রথম ধাপ হবে বিষয়টি বাস্তবায়নযোগ্য কি না তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিশন গঠন।

Kristdemokraterna কিছুটা কম বিস্তৃত অবস্থান নিয়েছে: নিকাব ও বোরকা জনসমক্ষে নিষিদ্ধ, এবং প্রি-স্কুল ও প্রাথমিক স্তরে মেয়েশিশুদের হিজাব নিষিদ্ধ। এবা বুশ ব্যাপারটিকে “burkakrati বনাম গণতন্ত্র” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বাকি ছয়টি দলের কারোরই সাধারণ হিজাব নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব নেই — Tidö জোটের ভেতরের M ও L-এরও নয়।

বিপরীত যুক্তি যা উঠেছে: বহু মুসলিম নারী এবং সাংবাদিক-বিতার্কিক প্রকাশ্যে বলেছেন তাঁরা স্বেচ্ছায় হিজাব পরেন, ঠিক যেমন অন্যরা ক্রুশ পরেন — এবং রাষ্ট্র কী পরা যাবে তা ঠিক করে দিলে সেটা নারীস্বাধীনতা বাড়ায় না, কমায়। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের সঙ্গে সংঘাতের প্রশ্নও উঠেছে।

২. মসজিদ ও ধর্মীয় সংগঠনের অর্থায়ন

SD-র ২০২৬ ইশতেহারে স্পষ্ট ভাষায় লেখা আছে যে ইসলামপন্থাকে পিছু হটাতে হবে, এবং যেসব মসজিদে ইসলামপন্থী মূল্যবোধ, ইহুদিবিদ্বেষ বা সন্ত্রাসের রোমান্টিকীকরণ প্রচার করা হয় সেগুলো ভেঙে ফেলা হবে। ভাষাটি এমন যে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন — সিদ্ধান্ত কে নেবে, কোন মানদণ্ডে?

Tidöavtalet-এর অধীনে সরকার একটি তদন্ত বসিয়েছে যা দেখছে বিদেশি অর্থায়ন সীমিত করা যায় কি না। ২০২৫ সালে যখন কার্যপরিধি প্রকাশিত হয়, দেখা যায় লক্ষ্য “গণতন্ত্রবিরোধী ও চরমপন্থী কার্যক্রম” — কেবল মসজিদ নয়। বিতর্কের সুর অবশ্য প্রায়ই ছিল ইসলামমুখী, যা নিয়ে ধর্মীয় সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

সাতটি ইসলামি জাতীয় সংগঠন এখনো রাষ্ট্রীয় সংস্থা SST-র মাধ্যমে সরকারি সহায়তা পায়, ঠিক যেমন খ্রিস্টান ও ইহুদি সংগঠনগুলো পায়।

৩. ধর্মীয় স্কুল (konfessionella friskolor)

এখানে বাম-ডান ছাঁচটা ভেঙে পড়ে — এবং এটা আপনার জানা দরকার।

  • Socialdemokraterna বহু বছর ধরে নতুন ধর্মীয় ফ্রিস্কুল নিষিদ্ধ করার পক্ষে
  • Vänsterpartiet ও Miljöpartiet-ও একই দাবি সমর্থন করেছে
  • Liberalerna নির্বাচনের আগে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে ছিল, কিন্তু Tidöavtalet-এর পর পিছু হটে
  • Sverigedemokraterna পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞার বদলে চেয়েছে কঠোর তদারকি ও নতুন স্কুল স্থাপনে সাময়িক বিরতি
  • Moderaterna সাধারণভাবে নিষেধাজ্ঞার বিরোধী

অর্থাৎ এই নির্দিষ্ট প্রশ্নে বামপক্ষ ডানপক্ষের চেয়ে কড়া। এটি অনেক মুসলিম ভোটারকে বিভ্রান্ত করে, এবং যথার্থ কারণেই।

আরেকটি কারণে বিষয়টি জটিল: ২০২৪ সালে Skolinspektionen আকাল্লার একটি মুসলিম স্কুল বন্ধ করে দেয় যখন Säpo জানায় স্কুল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সহিংস চরমপন্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এই ধরনের ঘটনা পুরো বিতর্কটির ওপর ছায়া ফেলে — যদিও সুইডেনের বেশিরভাগ konfessionella স্কুলই আসলে খ্রিস্টান, এবং সুইডেনে এমন স্কুলের সংখ্যা ডেনমার্ক বা নরওয়ের তুলনায় অনেক কম।

৪. নাগরিকত্ব ও অভিবাসন

এখানে সব দলই ২০১৫ সালের পর কড়াকড়ির দিকে সরেছে — এটা বোঝা জরুরি।

  • S স্পষ্ট বলেছে “কঠোর অভিবাসন নীতি অপরিবর্তিত থাকবে”
  • SD চায় আশ্রয় আইন EU-র ন্যূনতম স্তরে, পারিবারিক পুনর্মিলনে কড়া শর্ত, এবং অপরাধের কারণে নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের সুযোগ
  • M চায় ঘরোয়া সহিংসতায় দণ্ডিত হলে নাগরিকত্ব নয়, তবে একইসঙ্গে সুসংহত কর্মজীবীদের জন্য দ্রুত নাগরিকত্বের পথ খতিয়ে দেখতে
  • C সরকারের অভিবাসন নীতির সমালোচক — বিশেষত “kompetensutvisningar” (দক্ষ কর্মীদের কারিগরি কারণে বহিষ্কার) নিয়ে
  • V ও MP সবচেয়ে উদার অবস্থানে

আপনি নাগরিক হয়ে গেছেন, তাই এর সরাসরি প্রভাব আপনার ওপর কম। কিন্তু নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের প্রস্তাবটি নীতিগতভাবে নাগরিকদেরও স্পর্শ করে — এবং সমালোচকরা বলেন এটি দুই ধরনের নাগরিকত্ব তৈরি করে: জন্মসূত্রে আর অর্জিত।

৫. ভাষা — মাতৃভাষা শিক্ষা ও দোভাষী

SD চায় সরকারি অর্থে মাতৃভাষা শিক্ষা (modersmålsundervisning) সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করতে এবং সরকারি দোভাষী সেবার অধিকার সীমিত করতে। বাংলাভাষী পরিবারের জন্য এটি খুবই কংক্রিট: আপনার সন্তান স্কুলে বাংলা শেখার সুযোগ পাবে কি না, এবং আপনি ডাক্তারের কাছে দোভাষী পাবেন কি না।

অন্য দলগুলো এত দূর যায়নি, যদিও সুইডিশ ভাষার দক্ষতার ওপর জোর এখন সর্বদলীয় — বয়স্কসেবার কর্মীদের সুইডিশ জানার শর্ত S এবং SD দুই পক্ষই চায়।

৬. খাদ্য ও দৈনন্দিন ধর্মচর্চা

সুইডেনে জবাইয়ের আগে পশুকে অচেতন করা আইনত বাধ্যতামূলক — এই নিয়ম ১৯৩০-এর দশক থেকে চলে আসছে এবং এটি ইহুদি ও মুসলিম দুই সম্প্রদায়কেই সমানভাবে স্পর্শ করে। ফলে সুইডেনে বিক্রি হওয়া হালাল মাংস হয় “stunned-halal”, নয়তো আমদানি করা। এটি নতুন কোনো নির্বাচনী প্রস্তাব নয়, বরং দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত আইন।

আজানের (böneutrop) অনুমতি নিয়ে সিদ্ধান্ত হয় স্থানীয়ভাবে, পুলিশ ও কমিউনের মাধ্যমে — এবং এটি বহু কমিউনে বিতর্কের বিষয়। Vänsterpartiet স্পষ্টভাবে লিখেছে তারা গির্জার ঘণ্টা বা আজান কোনোটিরই বিরোধী নয়। এই কারণেই আপনার কমিউন-নির্বাচনের সাদা ব্যালটটি গুরুত্বপূর্ণ।

৭. বৈষম্য ও ঘৃণা-অপরাধ

এটি নীতির প্রশ্ন নয়, বাস্তবতার।

Brå-র গবেষণা অনুযায়ী ইসলামোফোবিক ঘৃণা-অপরাধের সবচেয়ে সাধারণ রূপ হলো হুমকি ও হয়রানি (৪৪%), তারপর জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচার (২৩%)। ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে যে এমন জায়গা খুব কমই আছে যেখানে মুসলিমরা এই ঝুঁকি ছাড়া থাকতে পারেন — এবং এর একটি পরিণতি হলো মানুষ নিজের ধর্মীয় পরিচয় লুকিয়ে রাখেন বা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হতে বিরত থাকেন

পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হন কর্মস্থলে বা বাড়ির কাছে; নারীরা বেশি আক্রান্ত হন অপরিচিতদের দ্বারা রাস্তায় বা ইন্টারনেটে — কারণ হিজাব দৃশ্যমান।

অনেক ঘটনাই রিপোর্ট হয় না। যদি আপনি বা আপনার পরিবার এমন কিছুর শিকার হন, পুলিশে রিপোর্ট করা যায় (১১৪ ১৪), এবং বৈষম্যের ক্ষেত্রে DO (Diskrimineringsombudsmannen)-এ অভিযোগ করা যায়। পরিসংখ্যান তখনই নীতিতে প্রভাব ফেলে যখন ঘটনাগুলো নথিভুক্ত হয়।

সরকার ২০২৪ সালে বর্ণবাদ ও ঘৃণা-অপরাধবিরোধী একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যেখানে স্বীকার করা হয়েছে যে মুসলিমদের প্রায়ই একটি সমসত্ত্ব গোষ্ঠী হিসেবে দেখা হয় এবং সেই ভিত্তিতে বৈষম্যের শিকার হতে হয়। সরকারি ভাষ্যে “islamofobi”-র বদলে “antimuslimsk rasism” শব্দটি ব্যবহার করা হয় — যুক্তি হলো, সমস্যাটি ধর্মের নয়, মানুষের ওপর আক্রমণের।


কোরআন পোড়ানোর সংকট — যা এখনো ছায়া ফেলে

২০২২-২০২৩ সালের ঘটনাগুলো এই আলোচনার পটভূমি, তাই সংক্ষেপে:

২০২২ সালের ইস্টারে রাসমুস পালুদান একাধিক শহরে কোরআন পোড়ান, যা সহিংস দাঙ্গায় গড়ায়। ২০২৩ সালে সালওয়ান মোমিকা স্টকহোমের মসজিদের সামনেসহ বহুবার একই কাজ করেন এবং TikTok-এ সরাসরি সম্প্রচার করেন।

পরিণতি: বাগদাদে সুইডিশ দূতাবাসে হামলা ও অগ্নিসংযোগ, ইরাকের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন, OIC ও জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের নিন্দা, এবং আগস্ট ২০২৩-এ Säpo সন্ত্রাসের হুমকির মাত্রা ৩ থেকে ৪-এ (পাঁচের স্কেলে) তোলে। মোমিকা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

রাজনৈতিক বিভাজনটা লক্ষ করার মতো: সরকার শৃঙ্খলা আইন (ordningslagen) সংশোধনের একটি তদন্ত বসায় — যাতে পুলিশ জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনা করে অনুমতি প্রত্যাখ্যান করতে পারে। SD ছিল এই ধারণার সবচেয়ে কড়া বিরোধী, বাক্‌স্বাধীনতার যুক্তিতে। ডেনমার্ক দ্রুত একটি নিষেধাজ্ঞা পাস করে; সুইডেন করেনি।

এটি একটি কঠিন প্রশ্ন যেখানে দুটি প্রকৃত মূল্যবোধ সংঘাতে পড়ে — বাক্‌স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মর্যাদা ও নিরাপত্তা। সুইডেনে বাক্‌স্বাধীনতা সাংবিধানিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী, এবং এই ঐতিহ্য বামপক্ষেও গভীর।


তাহলে সৎ উত্তরটা কী?

সবচেয়ে সরাসরি সীমাবদ্ধকারী প্রস্তাব যাদের: SD — একমাত্র দল যারা সাধারণ হিজাব নিষেধাজ্ঞা, মসজিদ ভেঙে ফেলা, মাতৃভাষা শিক্ষা বিলোপ, দোভাষী সীমিতকরণ এবং নাগরিকত্ব প্রত্যাহার — এই পাঁচটি একসঙ্গে চায়। কোনো দলের প্রস্তাব-তালিকা মুসলিমদের দৈনন্দিন ধর্মচর্চাকে এতটা স্পর্শ করে না। KD — নিকাব/বোরকা নিষেধাজ্ঞা এবং শিশুদের হিজাব নিষেধাজ্ঞা; “রাজনৈতিক ইসলাম”কে স্পষ্টভাবে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বৈষম্যবিরোধিতার পক্ষে: V — লিখিতভাবে আজান ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে, বর্ণবাদবিরোধিতা দলীয় কর্মসূচির কেন্দ্রে। MP — উদার অভিবাসন নীতি, সংখ্যালঘু অধিকারে জোর। C — অভিবাসনে উদারপন্থী, বহিষ্কারনীতির সমালোচক; তবে SFI-তে বাধ্যতামূলক মূল্যবোধ শিক্ষা চায়।

মধ্যবর্তী ও জটিল: S — ঐতিহাসিকভাবে মুসলিম ভোটারদের সবচেয়ে বড় দল (গবেষণায় ২০০৬-২০১৮ সালে প্রায় ৬৬%), বৈষম্যবিরোধী নীতির পক্ষে; কিন্তু কঠোর অভিবাসন নীতি বজায় রাখছে এবং ধর্মীয় ফ্রিস্কুল নিষিদ্ধ করতে চায়। M — হিজাব বা মসজিদ নিয়ে প্রস্তাব নেই, ধর্মীয় স্কুল নিষেধাজ্ঞারও বিরোধী; কিন্তু SD-কে সরকারে ও অভিবাসন মন্ত্রণালয়ে আনতে চায়। L — সামাজিকভাবে উদার, কিন্তু সংহতকরণে কড়া দাবি; ধর্মীয় স্কুল প্রশ্নে অবস্থান বদলেছে।

তিনটি সতর্কতা, যেগুলো ছাড়া এই তালিকা বিভ্রান্তিকর:

১. “ব্লক” দিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করা যায় না। ধর্মীয় স্কুলের প্রশ্নে বামপক্ষ ডানপক্ষের চেয়ে কড়া। এটা ব্যতিক্রম নয়, উদাহরণ।

২. নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ≠ আইন। SD একা সরকার গঠন করবে না, এবং হিজাব নিষেধাজ্ঞা ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশনের সঙ্গে সংঘাতে পড়তে পারে। SD নিজেই বলেছে প্রথম ধাপ কেবল একটি তদন্ত। জোট সরকারে প্রতিটি দলকেই কিছু ছাড়তে হয় — গত মেয়াদে SD-র বহু প্রস্তাবই Tidöavtalet-এ ঢোকেনি।

৩. কোনো সংসদীয় দল ইসলাম নিষিদ্ধ করতে চায় না। ধর্মীয় স্বাধীনতা সুইডিশ সংবিধানে সুরক্ষিত, এবং সব দলই আনুষ্ঠানিকভাবে তা সমর্থন করে। বিতর্কটি সীমা নিয়ে, অস্তিত্ব নিয়ে নয়।


আপনি কী করতে পারেন

valkompass ব্যবহার করুন, কিন্তু গভীরে যান। সাধারণ valkompass ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন করে না। দলের ওয়েবসাইটে গিয়ে “religionsfrihet”, “konfessionella skolor”, “modersmålsundervisning” খুঁজে দেখুন।

valstuga-য় গিয়ে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন। “আপনার দল হিজাব নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কী ভাবে?” — এটা সম্পূর্ণ বৈধ প্রশ্ন, এবং তাঁরা উত্তর দিতে বাধ্য বোধ করবেন।

তিনটি ব্যালটই ব্যবহার করুন। আজানের অনুমতি, মসজিদের জন্য জমি, স্কুলে হালাল খাবার, মাতৃভাষা শিক্ষার বাস্তবায়ন — এগুলোর অনেকটাই কমিউন ঠিক করে, রিক্সদাগ নয়।

personröst দিন। আপনি এমন প্রার্থীকে এগিয়ে দিতে পারেন যাঁকে আপনি বিশ্বাস করেন — এবং সব বড় দলেই মুসলিম পটভূমির প্রার্থী আছেন।

৪% বাধা মনে রাখুন। ২০২২ সালে “Nyans” নামে একটি মুসলিম-কেন্দ্রিক দল কিছু এলাকায় ভালো করেছিল, কিন্তু জাতীয়ভাবে বাধা পার হয়নি — অর্থাৎ সেই ভোটগুলো সংসদে কোনো আসনে রূপান্তরিত হয়নি। ছোট দলে ভোট দেওয়া বৈধ পছন্দ, কিন্তু এই ঝুঁকিটা জেনে দেওয়া উচিত।


শেষ কথা

দুটো জিনিস একসঙ্গে সত্য, এবং দুটোই বলা দরকার।

সুইডেনে মুসলিমবিরোধী বর্ণবাদ বাস্তব, পরিমাপযোগ্য, এবং কিছু দলের কর্মসূচিতে এমন প্রস্তাব আছে যা আপনার ধর্মচর্চাকে সরাসরি সীমিত করবে। এটা অস্বীকার করা অসৎ হবে।

কিন্তু একইসঙ্গে — আপনি এখন এমন একটি দেশের নাগরিক যেখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা সাংবিধানিক, যেখানে বৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার আছে, এবং যেখানে আপনার ভোট অন্য যেকোনো নাগরিকের ভোটের সমান ওজনের। Brå-র গবেষণায় দেখা গেছে ঘৃণা-অপরাধের একটি পরিণতি হলো মানুষ রাজনীতি থেকে সরে যায়। সেটাই সবচেয়ে বড় ক্ষতি — এবং সেটাই এড়ানো সবচেয়ে সহজ।

আপনার পরিচয় আপনার ভোটকে নির্ধারণ করে না। অনেক মুসলিম ভোটার অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা বা স্কুলের ভিত্তিতে ভোট দেন — ঠিক অন্য সবার মতো। এই পর্বটি লেখা হয়েছে যাতে আপনি জেনে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, ভয় পেয়ে নয়।


পরবর্তী পর্ব — সুইডিশ কর ও কল্যাণব্যবস্থা, অথবা আপনার নিজের কমিউনের রাজনীতি।

পর্ব ১: সুইডেনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা — একদম গোড়া থেকে

পর্ব ২-এ: সুইডেনের রাজনৈতিক ইতিহাস — দরিদ্র কৃষিনির্ভর দেশ থেকে ফোকহেম (folkhemmet) হয়ে আজকের সুইডেন।

পর্ব ৩: সংসদের আটটি দল — কে কোথা থেকে এল, কার শিকড় কোথায়, এবং কে কী চায়।

পর্ব ৪: ব্লক ব্যবস্থা — কীভাবে তৈরি হলো, কীভাবে ভেঙে পড়ল, এবং কীভাবে নতুন করে গড়ে উঠল।

পর্ব ৫: ২০২২-২০২৬ — বর্তমান সরকার আসলে কী করল? দুই পক্ষের দাবি কী, এবং স্বাধীন বিশ্লেষণ কী বলে?

পর্ব ৬: ২০২৬ সালের নির্বাচন — দুই ব্লক কী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, জরিপ কী বলছে, এবং কেন এই নির্বাচনের ফল একটি ছোট দলের ভাগ্যের ওপর ঝুলে আছে।

পর্ব ৭: ব্যবহারিক নির্দেশিকা — röstkort, তিনটি ব্যালট, ব্যক্তিগত ভোট (personröst), আগাম ভোট, এবং প্রথমবার ভোট দিতে গিয়ে কী কী জানা দরকার।

পর্ব ৮: ইসলাম ও মুসলিমরা — কোন দলের নীতি কীভাবে স্পর্শ করে

Leave a comment