বাতাসে ভেসে থাকা DNA থেকে প্রকৃতির অতীত ইতিহাসের সন্ধান
আপনি কি কখনও ভেবেছেন যে আমাদের চারপাশের বাতাসে লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য? বাতাসে শুধু অক্সিজেন আর কার্বন ডাই-অক্সাইড নয়, বরং উদ্ভিদ, ছত্রাক, জীবাণু, পোকামাকড় এমনকি বড় প্রাণীর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কোষ বা ডিএনএ টুকরোও ভেসে বেড়ায়। আমাদের সাম্প্রতিক একটি গবেষণা বিখ্যাত জার্নাল Nature Communications-এ প্রকাশিত হয়েছে (IF 17)। সেখানে আমরা দেখিয়েছি যে এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কোষ বা কণা থেকে প্রাপ্ত ডিএনএ টুকরোগুলো (জিনগত চিহ্নগুলো) প্রকৃতির অতীতের অসাধারণ গল্প বলতে পারে।
আমরা কী করেছি?
আমরা এমন এয়ার ফিল্টার বা বড় ছাঁকনি বিশ্লেষণ করেছি যা সুইডেনের উত্তারাঞ্চলের ধুলো, অজৈব ও জৈব ডিএনএ কণিকা সংগ্রহ করেছে – কয়েক বছর নয়, বরং তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে করেছে! এই ফিল্টারগুলো মূলত রেডিওঅ্যাকটিভ পদার্থ পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল, কিন্তু জীববৈচিত্র্য গবেষণার জন্য তা হয়ে উঠেছে এক অমূল্য ভাণ্ডার! ফিল্টারগুলোতে ডিএনএ দারুণ ভাবে সংরক্ষিত ছিল। DNA সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে আমরা ২,৭০০ প্রজাতির উপস্থিতি পর্যবেক্ষন করেছি, সপ্তাহে সপ্তাহে অনুসরণ করেছি, ১৯৬০-এর দশক থেকে ২০০০-এর শুরুর দিকে পর্যন্ত।
DNA কী প্রকাশ করেছে?
এই সময়ে জীববৈচিত্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। উদাহরণস্বরূপ, বার্চ গাছ, লাইকেন ও ছত্রাকের সংখ্যা কমেছে। এই হ্রাস শুধুমাত্র জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নয় – মানব কার্যকলাপ যেমন- বন ব্যবস্থাপনা বড় ভূমিকা রেখেছে।
কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?
প্রচলিত জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ সময়সাপেক্ষ ও সীমিত। আমাদের পদ্ধতি দেখিয়েছে যে বাতাসে থাকা কোষ বা DNA একটি ইকোলজিক্যাল টাইম ক্যাপসুল হিসেবে কাজ করতে পারে। এর মাধ্যমে:
- সময়ের সাথে জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তন ট্র্যাক করা যায়।
- আক্রমণাত্মক প্রজাতি ও রোগজীবাণু শনাক্ত করা যায়।
- ভবিষ্যতের পরিবর্তন পূর্বাভাস দিয়ে সংরক্ষণ কৌশল তৈরি করা যায়।
কীভাবে কাজ করে?
আমরা ব্যবহার করেছি:
- DNA সিকোয়েন্সিং প্রজাতি শনাক্ত করতে।
- বায়োইনফরমাটিক্স ও মেশিন লার্নিং ডেটা বিশ্লেষণে।
- বায়ু প্রবাহ মডেলিং DNA-এর উৎস নির্ধারণে।
কেন আপনার জানা উচিত?
শিক্ষার্থী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য: এটি গবেষণার নতুন যুগের সূচনা। ভাবুন তো, বাতাস থেকেই প্রকৃতির ইতিহাস পড়া – দ্রুত, বিস্তৃত এবং এমন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যা আগে সম্ভব ছিল না।
সম্পূর্ণ গবেষণা পড়ুন:
আরও তথ্যের জন্য:
পরিমার্জন ও পরিবর্ধনেঃ AI
আবু বকর ছিদ্দিক
সুইডিশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (SLU), উপসালা, সুইডেন
ব্লগ প্রকাশকাল: ১৯-১২-২০২৫
Leave a comment